1. admin@coxbazarnews24.com : admin :
  2. kaimulislamsuton@gmail.com : Kaimulislam :
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৬:৫৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ :
পর্যটন স্পট বন্ধ থাকায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা বিপাকে। রামুর গর্জনিয়াতে ইয়াবা সম্রাট ” লালুর ” ফিল্ম স্টাইলে চুরি। পরিবেশকর্মী এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, বাপা’র নিন্দা প্রকাশ নারিকেল চুরির বিষয় নিয়ে মহেশখালী মাতারবাড়ীর নয়া পাড়ায় দু-পক্ষের মধ্যে ঝগড়া। মাতারবাড়ীতে নৌকা প্রার্থীর ১১ দফা ইশতেহার ঘোষণা, পাল্টে যাচ্ছে ভোটের হিসাব ডিবি পুলিশের হাতে ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা নারী আটক। কক্সবাজারে কিশোর গ্যাং এর তালিকা তৈরী করা হচ্ছে – উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ । ওসি প্রদীপকে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার কারাগারে স্থানান্তর । কুতুবদিয়াতে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার চকরিয়াতে উপজেলা সমবায়ের দিন ব্যাপী কর্মশালা সম্পন্ন

টেকসই বেড়িবাঁধ চাই: জাকিয়া তাসনিম বাবলী

জাকিয়া তাসনিম বাবলী
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৮ মে, ২০২১
  • ৪৬৩ বার পঠিত

কাঁদছে কুতুবদিয়া, চারদিকে মানুষের আর্তনাদ। আজ এই আর্তনাদ একার নয়, আমাদের সকলের মাটি নুয়ে পড়ার আর্তনাদ। অস্তিত্ব সংকটের আর্তনাদ। বেঁচে থাকার জন্য বুকফাটা চিৎকার। সর্বপ্রথম ধিক্কার জানাই সেইসব মানুষকে যারা প্রকৃত পক্ষে মানুষের কষ্ট বুঝে নি, নিজের প্রচারে ব্যস্ত ছিল।

শুধু ঘূর্ণিঝড় কিংবা অতিরিক্ত আবহাওয়া খারাপে নয়, স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি ফেলে তলিয়ে যাচ্ছে কুতুবদিয়ার গ্রামের পর গ্রাম। স্বাভাবিক জোয়ারে গ্রামের উঠোন থেকে শুরু করে চলার পথ, ঘর-বাড়ি এমনকি খেটে খাওয়া মানুষের ফসলের জমি থেকে লবণের মাঠ পানি প্রবেশ করে। যে রোড দিয়ে একটা সময় মালামালের গাড়ি, সঠিক যোগাযোগ, হাটবাজারের পরিপক্ব স্থান ব্যবস্থা ছিল সে রাস্তায় আজ গলা থেকেও বেশি পানি অতিক্রম করে দিন কাটছে গ্রামীণ মানুষের। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর মাছ যেন নিম্নবিত্তের মধ্যদুপুরের খাবারের খোরাক, কোথায় আজ সে নদী, নদী আজ জলসমুদ্র। কুতুবদিয়ার মধ্যবিত্তের প্রাণের খোরাক আসে লবণের মাঠ ও ফসলি জমি থেকে। অধিকাংশ পরিবারের বাঁচা-মরা লবণ আর ফসলি জমির উপর নির্ভর। মৌসুমের সময়ে অসময়ে অতল পানিতে ডুবে থাকে ফসলি জমি, লবণের মাঠ, যার ফলে সঠিক সময়ে সঠিক ইনকাম আর ফসল কিংবা চাষের সুযোগ হয়ে উঠছে না গ্রামীণ মানুষের। গ্রামের কিছু কিছু পরিবারের অল্প আয় আসে গৃহপালিত হাস, মুরগি, গরু, ছাগল থেকে, যেখানের গ্রামীণ মানুষের পেটের খোরাক, স্বস্তির স্থান হচ্ছে না সেখানে রোজগার মুখে আনা নাম মাত্র।

এবার বসতভিটার দিকে দেখা যাক, সারা দিন পানির সাথে যুদ্ধ করে, ঝিমানো শরীরে স্বস্তি দিতে বালিশ রাখার একটু শুকনো জায়গার অভাব কুতুবদিয়ার উত্তরধূরুং, আলী আকবর ডেইল, লেমশীখালী থেকে শুরু করে বেড়িবাঁধ এলাকার অন্যান্য গ্রামীণ মানুষের। অতল পানিতে সারা বছর ডুবে যাবার কারণে গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের পথ আজ বন্ধ, বন্ধ আজ গরিব বাবার সন্ধ্যায় ঝিমিয়ে আসা শরীরের একটু স্বস্তির ঘুম আর পরিবারের সাথে কাটানো এক চিলতে হাসি। পরিবারের সন্তানদের সঠিক খাবার আর যথাযথ দায়িত্ব ও চাহিদা মিটাতে না পেরে বাড়ছে বাল্যবিবাহ থেকে শুরু করে, যৌতুক প্রথার উন্মেষ। সর্বদা লবণের পানির আনাগোনায় থাকতে থাকতে বাড়ছে নানা রকম রোগ। এছাড়া শিশু মৃত্যর হার আজ নগন্য, ঘরবাড়ি বাঁচানোর ব্যস্ততায় চোখ এড়িয়ে তলিয়ে যাচ্ছে মায়ের অহরহ শিশুসন্তান। এছাড়া গ্রামের প্রসূতি মা থেকে শুরু করে নবীন-প্রবীণ অসুস্থ রোগীর জন্য তাৎক্ষণিক নেই কোনো নিরাপদ ব্যবস্থা। সঠিক সময়ে সঠিক কিছুই আশা করার আর্তনাদ গ্রামীণ মানুষের নেই আর। গ্রামীণ মানুষের বিলাসিতার মৃত্যু হয়েছে ৭-৯ বছর ধরে। জীবিত থেকেও কতটা যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে সমুদ্র পানিতে কবলিত গ্রামীণ মানুষের, সাথে মরণের পরেও শান্তি নেই যেন, না আছে লোকসমাগমে জানাজা সম্পন্ন করার একখানা শুকনো স্থান, না পারছে কবরস্থানে সুন্দর করে দাফন করতে।

একটা টেকসই বেড়িবাঁধ সবকিছুর মূল। প্রতিবছর এত বাজেট হয় বলে গ্রামীণ মানুষকে শোনানো হয়, বড় বড় এমপি-মিনিস্টারের ভোটের সময় দেওয়া হয় পাহাড় সমান বেড়িঁবাধ করার শত শত পিঠ ঠেকানো স্বপ্ন।

গ্রামীণ মানুষদের বছরের পর বছর স্বপ্ন দেখানো নেতারা আপনাদের কাছে প্রশ্ন রয়ে গেল!

১. কোথায় আজ বেড়িঁবাধ?
২. কোথায় আজ বাজেটের স্বয়ংসম্পূর্ণ কাজ?
৩. বাজেট কি আপনাদের হাতে এসেছে নাকি আপনারা পেট পুরিয়েছেন?
৪. কেন গ্রামীণ মানুষের জীবিকার পথ বন্ধ আজ?
৫. কেন প্রসূতি মায়ের সঠিক নিরাপদ ব্যবস্থার অভাবে মৃত্যু হচ্ছে?
৬. কেন সঠিক চাহিদা, মৌলিক অধিকার পোষাতে না পেরে গরিব বাবার বাধ্য হতে হচ্ছে ১৩ বছরের মেয়ে বিয়ে দিতে?
৭. কেন সমুদ্র আর পুকুরের চিহ্ন নেই আজ?
৮. কেন কবরস্থান থেকে প্রিয়জের কবরের চিহ্ন মুছে গেছে?
৯. কেন সঠিক খাদ্য অভাব ও পুষ্টিহীনতায় ভুগছে মানুষ?
১০. কেন ঘরবাড়ি থেকে জনপদ, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, হাটবাজার জনবিচ্ছিন্ন আজ?
১১. আপনারা কি পারবেন শিশুর হামাগুড়ি দিয়ে বেড়ে উঠা শৈশবের সোনালি বিল, খেলার মাঠ ফিরিয়ে দিতে? পারবেন প্রতিটি পরিবারে আবারও হাসি ফোটাতে?
১২. অপরিপক্ক বেড়িবাঁধের পেছনে আপনারা এমপি-মিনিস্টারের কোনো হাত নেই?

আমি নয় আমরা ব্যাক্তিগতভাবে বলব আপনাদের ওপর ভরসা আজ আর নেই। আপনাদের এই গিলে খাওয়া দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদার উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। গ্রামীণ মানুষের বড় প্রশ্ন বাজেটের স্বয়ংসম্পূর্ণ কাজ পরিপক্ব নয় কেন? কেন বছরের পর বছর বাজেটও আসতে হবে কেনবা অপরিপক্ব বাঁধের কারণে গ্রামীণ মানুষকে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। বারবার বাজেট অনুমোদন আর পাস হয় কিন্তু কাজ হয় না কেন?

আর নয় চাটুকারিতা। সঠিক সমাধান চাই আমরা।
আমি ব্যাক্তিগতভাবে বলব, সঠিক বেড়িবাঁধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিংবা নৌবাহিনী ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই।

প্রিয় ভোগকারীরা আর কত এক পেটের চিন্তা আর হাজার মানুষের হক গিলে খাবেন? বিবেক কি একবারও শিহরিত হয় না?অমানবিক মনুষ্যত্ব কি একবারও নাড়া দেয় না? আপনারা নিজের অবস্থান থেকে বোঝার চেষ্টা করুন যে একটা সময় বেড়িবাঁধ ভাঙতে ভাঙতে আপনাদের পিঠ ঠেকানোর জায়গা অবধি পৌঁছাবে হয়তো আজ নয়তো কাল। ভোটের সময় বলা উন্নয়নের আশাবাদী কথাগুলো কোথায় আপনাদের? কোথায় সেই আশাবাদী বড় গলা! আপনাদের বিবেকের দিকে তাকিয়ে কুতুবদিয়ার অবহেলিত, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ আমাদের কুতুবদিয়া রক্ষা করুন আর ক্রাণের ব্যাবস্হা।

সর্বশেষ এটাই বলি-

আমরা আহার নয়,
আমরা বিলাসিতা নয়,
টেকসই বেড়িবাঁধ চাই, বেড়িবাঁধ চাই।
আর নয় বালির স্তুপ,
পরিপক্ব বাঁধ চাই, পরিপক্ব বাঁধ চাই।
পরিপক্ব বেড়িবাঁধে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ছাড়া বিকল্প নাই।

লেখক:
জাকিয়া তাসনিম বাবলী
-উত্তর ধূরুং, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2020 Coxbazarnews24
কারিগরি সহযোগিতায় :মোস্তাকিম জনি